০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির প্রতিবাদ : দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব

Ada. Munna Telecom1

সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যাহত প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব’।

আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব চত্বরে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন বলেন, একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়।

অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলে যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি হলো শিক্ষা খাত। বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক ঘুষ ও অনিয়ম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনা আমাদের লজ্জিত করেছে। যে ছাত্ররা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়েছে, সেই বাংলাদেশে কোনো প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি সিন্ডিকেটের ঠাঁই হতে পারে না। চুয়াডাঙ্গার মাটিতে মেধাবীদের অধিকার নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা এখন মেধাবীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি আমাদের স্বপ্ন চুরির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে ছাত্রসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র তামান্না খাতুন বলেন, ২৪–পরবর্তী সময়েও যদি আমাদের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে তা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক। চুয়াডাঙ্গায় ইতোমধ্যে দুইজন ডিভাইসধারী আটক হয়েছে, তবে হয়তো আরও অনেকেই এখনো আড়ালে রয়ে গেছে। মেধা নিয়ে খেলা চলতে থাকলে একদিন বাংলাদেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদর উপজেলা আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম নিরব তার বক্তব্যে বলেন, যেখানে মেধা অবহেলিত, সেখানে সমাজ কখনো এগোতে পারে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নে মেধার ভূমিকাই মুখ্য। মেধাবীদের বঞ্চিত করলে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

মানববন্ধনে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
২. প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে আনা।
৩. নিয়োগ পরীক্ষায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৪. সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা।
৫. প্রশ্ন ফাঁস রোধে দীর্ঘমেয়াদি কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন ও ইমরান হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন ও শাহারিয়ার হোসেন, রিমন মণ্ডল, ফাস্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মাসুমসহ আরও অনেকে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির প্রতিবাদ : দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব

প্রকাশের সময় : ০২:৪০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যাহত প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব’।

আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব চত্বরে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন বলেন, একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়।

অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলে যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি হলো শিক্ষা খাত। বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক ঘুষ ও অনিয়ম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনা আমাদের লজ্জিত করেছে। যে ছাত্ররা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়েছে, সেই বাংলাদেশে কোনো প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি সিন্ডিকেটের ঠাঁই হতে পারে না। চুয়াডাঙ্গার মাটিতে মেধাবীদের অধিকার নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা এখন মেধাবীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি আমাদের স্বপ্ন চুরির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে ছাত্রসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র তামান্না খাতুন বলেন, ২৪–পরবর্তী সময়েও যদি আমাদের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে তা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক। চুয়াডাঙ্গায় ইতোমধ্যে দুইজন ডিভাইসধারী আটক হয়েছে, তবে হয়তো আরও অনেকেই এখনো আড়ালে রয়ে গেছে। মেধা নিয়ে খেলা চলতে থাকলে একদিন বাংলাদেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদর উপজেলা আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম নিরব তার বক্তব্যে বলেন, যেখানে মেধা অবহেলিত, সেখানে সমাজ কখনো এগোতে পারে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নে মেধার ভূমিকাই মুখ্য। মেধাবীদের বঞ্চিত করলে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

মানববন্ধনে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
২. প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে আনা।
৩. নিয়োগ পরীক্ষায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৪. সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা।
৫. প্রশ্ন ফাঁস রোধে দীর্ঘমেয়াদি কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন ও ইমরান হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন ও শাহারিয়ার হোসেন, রিমন মণ্ডল, ফাস্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মাসুমসহ আরও অনেকে।