০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দু’মুঠো খাবারের আশায় পথে পথে ঘোরেন চুয়াডাঙ্গার বৃদ্ধা মনোরা

Ada. Munna Telecom1

বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পথে পথে দু’মুঠো খাবারের আশায় ঘোরেন বৃদ্ধা মনোরা। কারও বাড়ি থেকে মেলে দু’মুঠো চাল, কারও কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা, এই সামান্য দিয়েই কোনোরকমে চলে তার জীবন। ক্ষুধা, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তা যেন তার নিত্যসঙ্গী। অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। রাত নামলেই মাথা গোঁজার মতো নির্ভরতার আশ্রয় বলতে বাঁশঝাড়ের নিচে অন্যের জমিতে তৈরি করা একটি কুঁড়েঘর।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের বোনের বাসাতে থাকেন বৃদ্ধা মনোরা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আজ সম্পূর্ণ একা। নেই স্বামী, নেই সন্তান, আপন বলতে কেউ নেই তার। বোনের বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও ক্ষুধা নিবারণের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ভিক্ষাই হয়ে উঠেছে জীবনের একমাত্র অবলম্বন।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মনোরা নামে কোনো বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার আবেদন আমাদের দপ্তরে জমা পড়েনি। আবেদন জমা পড়লে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবাধিকার কর্মী শরাফত হোসেন রাসেল বলেন, সমাজে এমন অসংখ্য অসহায় মানুষ আছে যারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই মানুষগুলোর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিবেশী অনাহারে থেকেও যদি আমরা নিজের পেট ভরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি—তবে সেটা আসলে ঘুম নয়, ওটা বিবেকের গভীর অচেতনতা। মানুষের ক্ষুধা শুধু পেটের নয়; মানুষের ক্ষুধা ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর মানবিকতারও।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

দু’মুঠো খাবারের আশায় পথে পথে ঘোরেন চুয়াডাঙ্গার বৃদ্ধা মনোরা

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পথে পথে দু’মুঠো খাবারের আশায় ঘোরেন বৃদ্ধা মনোরা। কারও বাড়ি থেকে মেলে দু’মুঠো চাল, কারও কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা, এই সামান্য দিয়েই কোনোরকমে চলে তার জীবন। ক্ষুধা, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তা যেন তার নিত্যসঙ্গী। অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। রাত নামলেই মাথা গোঁজার মতো নির্ভরতার আশ্রয় বলতে বাঁশঝাড়ের নিচে অন্যের জমিতে তৈরি করা একটি কুঁড়েঘর।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের বোনের বাসাতে থাকেন বৃদ্ধা মনোরা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আজ সম্পূর্ণ একা। নেই স্বামী, নেই সন্তান, আপন বলতে কেউ নেই তার। বোনের বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও ক্ষুধা নিবারণের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। ভিক্ষাই হয়ে উঠেছে জীবনের একমাত্র অবলম্বন।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মনোরা নামে কোনো বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার আবেদন আমাদের দপ্তরে জমা পড়েনি। আবেদন জমা পড়লে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবাধিকার কর্মী শরাফত হোসেন রাসেল বলেন, সমাজে এমন অসংখ্য অসহায় মানুষ আছে যারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই মানুষগুলোর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিবেশী অনাহারে থেকেও যদি আমরা নিজের পেট ভরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি—তবে সেটা আসলে ঘুম নয়, ওটা বিবেকের গভীর অচেতনতা। মানুষের ক্ষুধা শুধু পেটের নয়; মানুষের ক্ষুধা ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর মানবিকতারও।