চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় শিশুকন্যা সুমাইয়াকে ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনার পাঁচ বছর পার হয়ে। তবে এ মামলায় কারো কাছ থেকে এখনো কোন আইনি সহায়তা পায়নি অসহায় পরিবারটি।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের নাসিরুল ইসলামের কন্যা সুমাইয়া খাতুন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলো।
এ সময় একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোমিনুল ইসলাম (২০) সুমাইয়া খাতুনকে ফুঁসলিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে শিম বানের নিচে নিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষন শেষে হত্যা করে।
এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শতশত মানুষ ধর্ষকের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
ওইদিন বিকালে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমোর্চা নামক একটি সংগঠন গ্রামবাসীর মানবন্ধনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
লোকমোর্চার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে আইনি সহায়তাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। লোকমোর্চা একটি বেসরকারী এনজিও প্রতিষ্ঠান ওয়েভ ফাউন্ডেশনের গঠিত নাগরিক সংগঠন।
সংগঠনটি দীর্ঘ ৫ বছরে সুমাইয়ার পরিবারকে আজ পর্যন্ত দেখা বা খোঁজখবর নেয়নি বলেও জানান অসহায় পরিবার। কোন প্রকার আইনি বা অন্যান্য সহযোগিতা করেনি বলেও সুমাইয়ার মা পলি খাতুন সাংবাদিকদের জানান।
সুমাইয়ার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন বলেন, লোকমোর্চার মূলত কাজ হলো শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করা। অথচ এই ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। লোকমোর্চা মূলত ঘটনার শুরুতে তোড়জোড় দেখালেও পরবর্তীতে তেমন কোন খোঁজখবর রাখে না।
ভুক্তভোগী সুমাইয়ার মা পলি খাতুন জানান, আজ আবধি এ মামলার আইনি সহায়তা খোঁজ খবর নেয়নি তারা কেউই। সুমাইয়ার জন্য আমি কোর্টে ৫ বছর ঘুরে বেড়াচ্ছি। আজও আমি ন্যায় বিচার পাইনি। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে সরকারি কেস চলে কিন্তু আমি আমার কেস নিজে একজন উকিল ধরে নিজে নিজেই চালায়। আমাকে কেউ সহযোগিতা করেনি। চার আনাও কারো কাছ থেকে সাহায্য পায়নি। আমি আরো আমার টাকা দিয়ে মামলা চালাচ্ছি। এখন কেস শেষ প্রান্তে এখন কি হবে রায় জানি না। আমি আসামির ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত থামবো না। আমি চাই তার ফাঁসি হোক। আমার ছোট মেয়ের বিচার আমি চাই-ই চাই।
এ বিষয়ে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক কামরুজ্জামান যুদ্ধের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি।
সুত্র : সময়ের সমীকরণ, আকাশ খবর
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 























