০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জ্বালানি সংকট

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন, বিক্রি বেড়েছে চার্জার মোটরসাইকেল

Ada. Munna Telecom1

দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি তেল সংকট চলছে। যার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার কারণে বদলাতে শুরু করেছে মানুষের যাতায়াতের অভ্যাস। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মিলছেনা তেল। এ জন্য একদিকে যেমন বেড়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, অন্যদিকে তেলের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাটারিচালিত চার্জার মোটরসাইকেল।

জেলা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে চুয়াডাঙ্গায় মোট ৬২২ জন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে শুধু গত ১০ দিনেই—১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ বিকেল পর্যন্ত আবেদন করেছেন ২০৬ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হঠাৎ করে আবেদন বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রশাসনের নজরেও এসেছে।

এদিকে তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে বিকল্প হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন ব্যাটারিচালিত চার্জার মোটরসাইকেলের দিকে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের কেদারগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘অরিজিনাল অটো’ শোরুমের ম্যানেজার সাগর জানান, আগে যেখানে মাসে ৫ থেকে ৭টি চার্জার মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, সেখানে চলতি মাসে তাদের দুটি শোরুমে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি। তার মতে, তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ কম খরচের ও ঝামেলাহীন যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে চার্জার মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াকিল। তিনি বলেন, “ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু এখন তেল নিতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে একটি চার্জার মোটরসাইকেল কিনেছি। এতে খরচও কমছে, সময়ও বাঁচছে।”

চুয়াডাঙ্গা সদরে হোম ডেলিভারি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘ফুড কালেকশনেরর’ মালিক মাসুদ রানা রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আমাদের সার্ভিস সব সময় চলমান থাকে। দেরি করে গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তেলের জন্য অপেক্ষা করলে গ্রাহকরা যথাসময়ে তাদের অর্ডারকৃত পন্য পৌছাতে দেরি হচ্ছে। তাই চলমান তেল সংকটসহ যাতায়াতের সুবিধার্তে চলতি মাসে তিনটি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল কিনতে হয়েছে। তবে তেলের গাড়ি থেকে চার্জার মোটরসাইকেলে অনেকটাই
সাশ্রয় হচ্ছে।

তবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সব ধরনের মোটরসাইকেলের বাজারে সমানভাবে পড়েনি। শহরের ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের শোরুম ‘দিপু এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজার জানান, চলতি মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৪২টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা অন্যান্য মাসের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) লিটন বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে অনেকেই এখন নিয়মের মধ্যে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়ায় আবেদন সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

জ্বালানি সংকট

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন, বিক্রি বেড়েছে চার্জার মোটরসাইকেল

প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি তেল সংকট চলছে। যার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার কারণে বদলাতে শুরু করেছে মানুষের যাতায়াতের অভ্যাস। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মিলছেনা তেল। এ জন্য একদিকে যেমন বেড়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, অন্যদিকে তেলের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাটারিচালিত চার্জার মোটরসাইকেল।

জেলা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে চুয়াডাঙ্গায় মোট ৬২২ জন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে শুধু গত ১০ দিনেই—১৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ বিকেল পর্যন্ত আবেদন করেছেন ২০৬ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হঠাৎ করে আবেদন বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রশাসনের নজরেও এসেছে।

এদিকে তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে বিকল্প হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন ব্যাটারিচালিত চার্জার মোটরসাইকেলের দিকে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের কেদারগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘অরিজিনাল অটো’ শোরুমের ম্যানেজার সাগর জানান, আগে যেখানে মাসে ৫ থেকে ৭টি চার্জার মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, সেখানে চলতি মাসে তাদের দুটি শোরুমে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি। তার মতে, তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ কম খরচের ও ঝামেলাহীন যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে চার্জার মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াকিল। তিনি বলেন, “ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু এখন তেল নিতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে একটি চার্জার মোটরসাইকেল কিনেছি। এতে খরচও কমছে, সময়ও বাঁচছে।”

চুয়াডাঙ্গা সদরে হোম ডেলিভারি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘ফুড কালেকশনেরর’ মালিক মাসুদ রানা রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আমাদের সার্ভিস সব সময় চলমান থাকে। দেরি করে গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তেলের জন্য অপেক্ষা করলে গ্রাহকরা যথাসময়ে তাদের অর্ডারকৃত পন্য পৌছাতে দেরি হচ্ছে। তাই চলমান তেল সংকটসহ যাতায়াতের সুবিধার্তে চলতি মাসে তিনটি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল কিনতে হয়েছে। তবে তেলের গাড়ি থেকে চার্জার মোটরসাইকেলে অনেকটাই
সাশ্রয় হচ্ছে।

তবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সব ধরনের মোটরসাইকেলের বাজারে সমানভাবে পড়েনি। শহরের ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের শোরুম ‘দিপু এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজার জানান, চলতি মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৪২টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা অন্যান্য মাসের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) লিটন বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে অনেকেই এখন নিয়মের মধ্যে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়ায় আবেদন সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এএইচ