চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের পান্তাপাড়া হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোঃ সেলিম মিয়াজী (২৮), তার মা মোছাঃ শিল্পী বেগম (৪৭) ও পিতা মোঃ রহিম মিয়াজী (৫০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পুরাতন চাকলা গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে নয়ন হোসেন (১৯) সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়ার আশায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, সেলিম মিয়াজী নিজেকে “সিভিল সেনা সদস্য” পরিচয় দিয়ে প্রায় এক বছর আগে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তিন মাসের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরির কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করেন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি সেনাবাহিনীর ভয় দেখিয়ে হেনস্তার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নয়ন হোসেন বলেন, তারা আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছে। এখন আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে বাগানমাঠ এলাকার মোঃ খায়রুল ইসলাম ও খড়েমান্দারতলা এলাকার মোঃ সোহাগসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত থানার শরণাপন্ন হন তিনি।
অভিযুক্ত সেলিম মিয়াজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি চাকরির বিষয় নয়; অন্য একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। অভিযুক্ত সেলিম মিয়াজী টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছেন এবং উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এএইচ
জীবননগর প্রতিনিধি 






















