০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা জানা গেল

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী মো. হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখা।

এ ঘটনায় আজ বুধবার (৪ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান দলটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে হাসাদহ বাজারে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিনা উস্কানিতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েনের নির্দেশে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান।

হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান, তার ভাই মো. হাফিজুর রহমান এবং ভাতিজা মো. মাহফুজসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর হয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পূর্বশত্রুতার জেরে বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মীদের হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দিন ইফতারের আগে সুটিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা আপোষ-মীমাংসার উদ্দেশ্যে হাসাদহ বাজারে গেলে সেখানে পুনরায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার পর দ্রুত পুলিশকে জানানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে হামলাকারীরা সুযোগ পায়। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়।

এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের বড় ভাই মো. আমীর হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় বিএনপি সহ তার অঙ্গসংগঠন বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় ও আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ইসরাইল হোসেন কে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু উক্ত ঘটনায় তার কোন সম্পৃক্ততা নাই। এছাড়াও তারা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াবলী তুলে ধরে মিডিয়া ক্যু করার ষড়যন্ত্র করছে। “ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

জীবননগরে জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা জানা গেল

প্রকাশের সময় : ০৭:১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী মো. হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখা।

এ ঘটনায় আজ বুধবার (৪ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান দলটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে হাসাদহ বাজারে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিনা উস্কানিতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা হয়, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েনের নির্দেশে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান।

হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান, তার ভাই মো. হাফিজুর রহমান এবং ভাতিজা মো. মাহফুজসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর হয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পূর্বশত্রুতার জেরে বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মীদের হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দিন ইফতারের আগে সুটিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা আপোষ-মীমাংসার উদ্দেশ্যে হাসাদহ বাজারে গেলে সেখানে পুনরায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার পর দ্রুত পুলিশকে জানানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে হামলাকারীরা সুযোগ পায়। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়।

এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের বড় ভাই মো. আমীর হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় বিএনপি সহ তার অঙ্গসংগঠন বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় ও আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ইসরাইল হোসেন কে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু উক্ত ঘটনায় তার কোন সম্পৃক্ততা নাই। এছাড়াও তারা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াবলী তুলে ধরে মিডিয়া ক্যু করার ষড়যন্ত্র করছে। “ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”