চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই পক্ষ। ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, যা এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে উভয় পক্ষই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার রায়পুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস মোল্লা। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছেলে মো. আবু হুরায়রা। বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ২৬ মার্চ সকালে তাদের নার্সারির গোডাউনে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, যাতে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়।
রুহুল কুদ্দুস মোল্লার অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ বাবর আলীসহ কয়েকজন এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তাদের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেই দাবি পূরণ না করায় প্রতিশোধমূলকভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবর আলী। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে জীবননগর শহরের থ্রি-স্টার হোটেলে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রুহুল কুদ্দুস মোল্লা, তার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে পাল্টা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
বাবর আলীর দাবি, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে এবং তার সহযোগীদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার কারণ নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। জীবননগর ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এএইচ
জীবননগর প্রতিনিধি 























