১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে কলাগাছ ফেলে আড়াই লাখ টাকা লুট, ডাকাত ধরতে মাঠ ঘেরাও

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জালশুকা-ফুলবাড়ী সড়কে কলাগাছ ফেলে মোটরসাইকেলের পথ আটকে আড়াই লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন ভুক্তভোগীরা। বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর্) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেরুর আখের মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্বাস ফুলবাড়ী গ্রামের আবুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সবজির ব্যবসা করেন এবং ব্যবসার পণ্য দশমাইল বাজারের সেলিমের আড়তে সরবরাহ করেন।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি রাজু ও সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে দশমাইল বাজারের সেলিমের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কেরুর আখের মাঠের কাছে পৌঁছে সড়কের ওপর একটি কলাগাছ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। সেটি এড়িয়ে যেতে মোটরসাইকেল থামানোর সঙ্গে সঙ্গে রামদা হাতে দুই দিক থেকে চার ব্যক্তি এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে।

এ সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসা রাজু টাকাভর্তি ব্যাগটি রাস্তার পাশের ঝোপে ছুড়ে ফেলেন। তবে দুর্বৃত্তরা ব্যাগটি দেখে ফেলায় ঝোপ থেকে সেটি তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ছিনতাইয়ের খবর ফুলবাড়ী গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে দুর্বৃত্তদের ধরতে কেরুর আখের মাঠ এলাকায় যান এবং আশপাশ ঘিরে ফেলেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপ থেকে আব্বাস ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। তাঁদের ধারণা, ব্যাগটি ঝোপে ফেলার সময় ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল বাইরে পড়ে গিয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ব্যাগ থেকে বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ফুলবাড়ী ও জালশুকা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে সকাল-সন্ধ্যা মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এলাকাটি মাদকসেবীদের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। পুলিশ তৎপর হলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান চলছে। শুক্রবার তিনি আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি : সভাপতি মারিফুল, সম্পাদক হানজালা

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে কলাগাছ ফেলে আড়াই লাখ টাকা লুট, ডাকাত ধরতে মাঠ ঘেরাও

প্রকাশের সময় : ০৪:০৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জালশুকা-ফুলবাড়ী সড়কে কলাগাছ ফেলে মোটরসাইকেলের পথ আটকে আড়াই লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন ভুক্তভোগীরা। বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর্) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেরুর আখের মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্বাস ফুলবাড়ী গ্রামের আবুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সবজির ব্যবসা করেন এবং ব্যবসার পণ্য দশমাইল বাজারের সেলিমের আড়তে সরবরাহ করেন।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি রাজু ও সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে দশমাইল বাজারের সেলিমের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কেরুর আখের মাঠের কাছে পৌঁছে সড়কের ওপর একটি কলাগাছ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। সেটি এড়িয়ে যেতে মোটরসাইকেল থামানোর সঙ্গে সঙ্গে রামদা হাতে দুই দিক থেকে চার ব্যক্তি এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে।

এ সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসা রাজু টাকাভর্তি ব্যাগটি রাস্তার পাশের ঝোপে ছুড়ে ফেলেন। তবে দুর্বৃত্তরা ব্যাগটি দেখে ফেলায় ঝোপ থেকে সেটি তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ছিনতাইয়ের খবর ফুলবাড়ী গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে দুর্বৃত্তদের ধরতে কেরুর আখের মাঠ এলাকায় যান এবং আশপাশ ঘিরে ফেলেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপ থেকে আব্বাস ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। তাঁদের ধারণা, ব্যাগটি ঝোপে ফেলার সময় ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল বাইরে পড়ে গিয়েছিল। দুর্বৃত্তরা ব্যাগ থেকে বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ফুলবাড়ী ও জালশুকা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে সকাল-সন্ধ্যা মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এলাকাটি মাদকসেবীদের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। পুলিশ তৎপর হলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান চলছে। শুক্রবার তিনি আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।

এএইচ