“অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি, এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ পেয়েছি, আল্লাহ সংযোগের সবাইকে ভালো রাখুক”—এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন দামুড়হুদার দলকা গ্রামের কৃষক হোসেন আলী।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষীপুর হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো “সংযোগ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ২০২৫”।

সংযোগ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং লক্ষীপুর যুবসমাজের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে সকাল থেকেই রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। বিকেল ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া স্থানীয় মাদ্রাসার ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল—ডা. নাহিদ ফাতেমা রত্না, ডা. সুজা উদ্দীন পরাগ, ডা. আহসান হাবিব শাকিল, ডা. এ বি এম আবিদ হাসান, ডা. মো. শাহরিয়ার সিয়াম এবং ডা. নাইমুর রহমান স্বপ্নীল। তারা সাধারণ রোগ নির্ণয় ছাড়াও দাঁতের সমস্যা, ডায়াবেটিস, গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিষয়ে বিনামূল্যে সেবা দেন।

এ সময় ডা. মো. শাহরিয়ার সিয়াম বলেন, “মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। অনেক গ্রামীণ মানুষ চিকিৎসার অভাবে ভোগেন। সংযোগ ফাউন্ডেশনের এ আয়োজন স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও মানবিক করে তুলছে।”
রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলকা গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা খাতুন বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা ও দুর্বলতার সমস্যা ছিল। আজ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছি। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি সত্যিই আশীর্বাদ।”

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “কাজের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। আজ একসঙ্গে দাঁতের চিকিৎসা আর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে পেরেছি। চিকিৎসকেরা খুব আন্তরিকভাবে দেখেছেন।”
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন জানান, “আমাদের দাঁতের চেকআপ করা হয়েছে। ডাক্তার সাহেবরা দাঁতের যত্ন নেওয়ার নিয়ম শিখিয়েছেন। আগে এসব জানতাম না। খুব উপকার হলো।”
হালিমা বেগম কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি অনেকদিন ধরে হাড়ের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। এখানে এসে ডাক্তার ওষুধ দিয়েছেন, ব্যায়ামের নিয়ম শিখিয়েছেন। টাকা খরচ ছাড়াই চিকিৎসা পাওয়া আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো।”

পুরো আয়োজনকে সফল করতে সংযোগ ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ-এর চুয়াডাঙ্গা টিম এবং লক্ষীপুরের স্থানীয় যুব সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ক্যাম্প প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, রোগীদের শৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে বসার ব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। তাদের লক্ষ্য—সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। চিকিৎসা শেষে অনেক রোগী ও অভিভাবক আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















