০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রীকে ধর্ষণ, কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী (১৮) বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।

এজাহারে তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে ‘ক্রনিক ধর্ষণ’ করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাজিদ হাসান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাজিদ হাসান শিক্ষকতার পাশাপাশি শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান। ভুক্তভোগী ছাত্রী ২০২০ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সাজিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এইচএসসি পাসের পর তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এ সময়ের মধ্যে বিয়ের কথা বলে সাজিদ হাসান ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ছাত্রী বিয়ের কথা বললে তিনি নানা টালবাহানা করে এড়িয়ে যান।

সাজিদ হাসানের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সাজিদ বিবাহিত। তাঁর ৯ ও ৬ বছর বয়সী দুটি মেয়ে আছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কখনো দামুড়হুদা, কখনো দর্শনায় বসবাস করেন। মামলার খবর জানাজানি হলে অভিযুক্ত প্রভাষক সাজিদ হাসান আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রভাষক সাজিদ হাসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সাজিদ হাসান যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সেটার অধ্যক্ষ বলেন, মামলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রকে জানিয়েছেন।

ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, মামলার বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আজকেই জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দামুড়হুদা উপজেলার দ্বাদশ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তৎকালীন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শিক্ষক সাজিদ হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক সাজিদ হাসান জরিমানার অর্থ নগদে পরিশোধ করে মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এ ধরনের কার্যক্রম করবে না বলে মুচলেকা দেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রীকে ধর্ষণ, কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী (১৮) বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।

এজাহারে তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে ‘ক্রনিক ধর্ষণ’ করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাজিদ হাসান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাজিদ হাসান শিক্ষকতার পাশাপাশি শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান। ভুক্তভোগী ছাত্রী ২০২০ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সাজিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এইচএসসি পাসের পর তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এ সময়ের মধ্যে বিয়ের কথা বলে সাজিদ হাসান ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ছাত্রী বিয়ের কথা বললে তিনি নানা টালবাহানা করে এড়িয়ে যান।

সাজিদ হাসানের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সাজিদ বিবাহিত। তাঁর ৯ ও ৬ বছর বয়সী দুটি মেয়ে আছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কখনো দামুড়হুদা, কখনো দর্শনায় বসবাস করেন। মামলার খবর জানাজানি হলে অভিযুক্ত প্রভাষক সাজিদ হাসান আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রভাষক সাজিদ হাসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সাজিদ হাসান যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সেটার অধ্যক্ষ বলেন, মামলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রকে জানিয়েছেন।

ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, মামলার বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আজকেই জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দামুড়হুদা উপজেলার দ্বাদশ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তৎকালীন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শিক্ষক সাজিদ হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক সাজিদ হাসান জরিমানার অর্থ নগদে পরিশোধ করে মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এ ধরনের কার্যক্রম করবে না বলে মুচলেকা দেন।