০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষাবৃত্তি পেল ২৯২ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর হাতে মোট ১৮ লাখ ২৬ হাজার টাকার বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চারটি ক্যাটাগরিতে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা, প্রকৌশল (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে ৮ হাজার টাকা এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল (এমবিবিএস ও বিডিএস) বিভাগের ২২ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আনিসা খানম।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, জীবনে সফল হতে হলে প্রত্যেকের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনাই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে জেলার অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। জেলার উন্নয়নে তাদেরও সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। জেলা পরিষদও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না; বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত তাদের লেখাপড়া ও চলাফেরার প্রতি নজরদারি রাখতে হবে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক চোরাচালানের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সন্তানদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, এই শিক্ষাবৃত্তি কোনো অনুদান নয়, বরং মেধাবীদের উৎসাহিত করার একটি উদ্যোগ। একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেলে অন্যরাও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত হবে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নির্বাচনে কোনো স্বজনপ্রীতি করা হয়নি; মূল মার্কশিট যাচাই করেই নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চুয়াডাঙ্গায় নার্সারি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত ‘এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুর রশীদ, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম ও নাজিফা আনজুম মুনিয়া, এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিপ্লব হোসেন। অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মুকছিত আল কাননের বাবা টোকন আলী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, ডিজিটাল জরিমানার অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষাবৃত্তি পেল ২৯২ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর হাতে মোট ১৮ লাখ ২৬ হাজার টাকার বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চারটি ক্যাটাগরিতে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা, প্রকৌশল (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে ৮ হাজার টাকা এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল (এমবিবিএস ও বিডিএস) বিভাগের ২২ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আনিসা খানম।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, জীবনে সফল হতে হলে প্রত্যেকের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনাই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে জেলার অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। জেলার উন্নয়নে তাদেরও সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। জেলা পরিষদও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না; বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত তাদের লেখাপড়া ও চলাফেরার প্রতি নজরদারি রাখতে হবে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক চোরাচালানের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সন্তানদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, এই শিক্ষাবৃত্তি কোনো অনুদান নয়, বরং মেধাবীদের উৎসাহিত করার একটি উদ্যোগ। একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেলে অন্যরাও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত হবে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নির্বাচনে কোনো স্বজনপ্রীতি করা হয়নি; মূল মার্কশিট যাচাই করেই নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চুয়াডাঙ্গায় নার্সারি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত ‘এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুর রশীদ, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম ও নাজিফা আনজুম মুনিয়া, এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিপ্লব হোসেন। অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মুকছিত আল কাননের বাবা টোকন আলী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

এএইচ