০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইদঘাটে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে উল্টো থানায় অভিযোগ : পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বিক্ষোভ-মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত যুবকদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে গাইদঘাট গ্রামের দক্ষিণ পাড়া মসজিদের সামনে ‘দক্ষিণ পাড়া মাদকবিরোধী সামাজিক জোটে’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আয়োজকেরা জানান, সমাজ থেকে মাদকের মূল উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক এখন সমাজের সর্বস্তরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর আগ্রাসনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যেই তারা মাদকবিরোধী সামাজিক কমিটি গঠন করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার মাদকসহ হানেফ মিয়া আটক হওয়ার পর তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তাদের চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুরের কথা বলা হয়েছে। রবিউল ইসলামের দাবি, থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ তদন্তে এসে মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল আহমেদ তাদের হুমকি দিয়েছেন এবং তারা কীসের কমিটি করেছেন, কে তাদের কমিটি করার অনুমতি দিয়েছে—এমন প্রশ্নও করেছেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাটে ইয়াবাসহ আটক হানিফকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ৫ হাজার

স্থানীয় সোবহান মিয়া বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের সন্তানরা বিপথে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন। তার অভিযোগ, কমিটি গঠনের পরই মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা মাদক ব্যবসায়ী নুরুলকে মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটক করেন এবং মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে আসার পর নুরুলের সঙ্গে থাকা একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হানেফ মিয়া মাদকসহ আটকের পর মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত যুবকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল এসে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং যুবসমাজকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী কমিটি নিয়ে তিনি কোনো ধরনের বাজে মন্তব্য করেননি। তার কাছে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আসায় তিনি সেটি তদন্ত করতে গিয়েছিলেন; এর বাইরে তিনি আর কোনো বিষয়ে জড়িত নন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটি নিয়ে এএসআই জামাল আহমেদ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন কি না, তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ওসি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও সেই নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কা টা পড়ে বিধবা সামিরণের ৮ ছাগলের মৃ ত্যু, হারালেন বেঁ চে থাকার শেষ অবলম্বন

গাইদঘাটে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে উল্টো থানায় অভিযোগ : পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বিক্ষোভ-মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত যুবকদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে গাইদঘাট গ্রামের দক্ষিণ পাড়া মসজিদের সামনে ‘দক্ষিণ পাড়া মাদকবিরোধী সামাজিক জোটে’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আয়োজকেরা জানান, সমাজ থেকে মাদকের মূল উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক এখন সমাজের সর্বস্তরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর আগ্রাসনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যেই তারা মাদকবিরোধী সামাজিক কমিটি গঠন করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার মাদকসহ হানেফ মিয়া আটক হওয়ার পর তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তাদের চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুরের কথা বলা হয়েছে। রবিউল ইসলামের দাবি, থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ তদন্তে এসে মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল আহমেদ তাদের হুমকি দিয়েছেন এবং তারা কীসের কমিটি করেছেন, কে তাদের কমিটি করার অনুমতি দিয়েছে—এমন প্রশ্নও করেছেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গার গাইদঘাটে ইয়াবাসহ আটক হানিফকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ৫ হাজার

স্থানীয় সোবহান মিয়া বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের সন্তানরা বিপথে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন। তার অভিযোগ, কমিটি গঠনের পরই মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা মাদক ব্যবসায়ী নুরুলকে মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটক করেন এবং মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে আসার পর নুরুলের সঙ্গে থাকা একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হানেফ মিয়া মাদকসহ আটকের পর মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া যুবকদের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত যুবকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল এসে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং যুবসমাজকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জামাল আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী কমিটি নিয়ে তিনি কোনো ধরনের বাজে মন্তব্য করেননি। তার কাছে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আসায় তিনি সেটি তদন্ত করতে গিয়েছিলেন; এর বাইরে তিনি আর কোনো বিষয়ে জড়িত নন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটি নিয়ে এএসআই জামাল আহমেদ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন কি না, তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ওসি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও সেই নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।