দীর্ঘ ৪ বছর পরকীয়া সম্পর্কের পর অন্যত্র বিবাহের প্রস্তুতি নেয়ার জেরে ববিতা খাতুন (২৮) নামের এক নারী বিষপানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ববিতা খাতুনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
নিহত ববিতা খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের হাটুভাংগা গ্রামের জামিরুল ইসলামের মেয়ে। এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের ঝোড়পাড়া গ্রামের প্রবাসী আজাদের স্ত্রী।
নিহত ববিতা খাতুনের বাবা জামিরুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গত ১৪ নভেম্বর আমার মেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে ঘাষপোড়া বিষপান করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য (হারদী হাসপাতাল) কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে চিকিৎসক ছাড়পত্র দিলে মেয়েকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এর দুই ঘন্টা পর অর্থাৎ রাত ৩ টার দিকে আমার মেয়ে মারা যায়।
জামিরুল ইসলাম অভিযোগ করে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে বিষপানের কারণ জানতে চাইলে তারা আমাকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪ বছর যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা গ্রামের ঠান্ডা আলীর ছেলে নাঈম আলীর সঙ্গে সম্পর্ক চলে আসছিল। সেই ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় আমার মেয়ের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি নাইমের পরিবার থেকে অন্য জায়গায় বিয়ের কথাবার্তা চলছে। বিষয়টি আমার মেয়ে জানতে পেরে নাইমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এরই জের ধরে আমার মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে নাইম। আমি তার শাস্তির দাবি করছি। তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করব আমি।
এদিকে, খবর পেয়ে সোমবার সকালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ববিতা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে বিকেলে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। রাত ৮টার দিকে হাটুভাংগা গ্রামে জানাযার নামায শেষে ববিতা খাতুনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে নিহত ববিতা খাতুনের শ্বশুর বাড়ি লোকজন ও অভিযুক্ত নাইমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের মন্তব্য জানা যায়নি।
নিহত ববিতা খাতুনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারি কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে গত ৪ দিন আগে বিষপান করেছিলেন বলে জানতে পেরেছি। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজ পিতার বাড়িতে মারা গেছেন। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন একটু কথা আমিও শুনেছি, কতটুকু সত্য তা আমি জানি না। তবে ঘটনাস্থল মেহেরপুর গাংনী থানার আওতাধীন। তাই এ বিষয়টি গাংনী থানা পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে মেহেরপুরের গাংনী থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানতে খোঁজ নেয়া হবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 























