১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃ ত্যু বার্ষিকী আজ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সাম্যবাদের চেতনায় দীপ্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কবিকে স্মরণ করবে দেশের মানুষ।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগেও কবির স্মরণে নানা কর্মসূচি রয়েছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিভায় পরিণত হন।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। স্বল্প সময়ের এই সাহিত্যজীবনে তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়েছে।

নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সৃষ্টিতে অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি মানবতা, সাম্য ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

অন্যদিকে নজরুল ছিলেন চিরপ্রেমের কবি। তাঁর সৃষ্টিতে দ্রোহের তীব্রতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও সৌন্দর্যের গভীর প্রকাশ। কবি নিজেই বলেছেন, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুল ইসলামকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করা কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুর পরও বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনার জগতে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি মানুষকে ভালোবাসা ও সাম্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

সাইনবোর্ডে লেখা ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’, ভেতরে মিললো ক ন ড মে র কারখানা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃ ত্যু বার্ষিকী আজ

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সাম্যবাদের চেতনায় দীপ্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কবিকে স্মরণ করবে দেশের মানুষ।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগেও কবির স্মরণে নানা কর্মসূচি রয়েছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিভায় পরিণত হন।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। স্বল্প সময়ের এই সাহিত্যজীবনে তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়েছে।

নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সৃষ্টিতে অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি মানবতা, সাম্য ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

অন্যদিকে নজরুল ছিলেন চিরপ্রেমের কবি। তাঁর সৃষ্টিতে দ্রোহের তীব্রতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও সৌন্দর্যের গভীর প্রকাশ। কবি নিজেই বলেছেন, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুল ইসলামকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করা কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুর পরও বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনার জগতে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পাশাপাশি মানুষকে ভালোবাসা ও সাম্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে।

এএইচ