০৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ, সেচ ব্যাহত, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল ডিজেল চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা। তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাঠের ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। ভোর থেকে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ক্ষেত্রে ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সীমিত পরিমাণ তেল মিলছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে মাঠে থাকা অধিকাংশ ফসল বড় হয়ে গেছে এবং খুব বেশি সেচের প্রয়োজন নেই।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেলায় কোন তেলের সংকট নেই। কৃষকরা তেল না পেলে অভিযোগ করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমার ৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল রয়েছে। দিনে ২ থেকে ৩ লিটার তেল প্রয়োজন হয়, কিন্তু পাচ্ছি ১ থেকে ২ লিটার। আজ লাউয়ের ক্ষেতে অর্ধেক পানি দিতে পেরেছি, বাকি অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

কৃষক শুকুর আলী জানান, ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৩টায় তেল পাই, তাও খুব কম। ভুট্টা খেতে সেচ দিতে পারছি না। বৃষ্টি নেই, তেলও নেই, ফসল বাঁচানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক আরিফ মিয়া বলেন, তেলের কার্ড থাকলেও সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে দিনমজুরির কাজও করা যায় না। একদিনে তেলের চাহিদা পূরণ হয় না, ফলে জমিতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।

কৃষকদের অভিযোগ, তেলের সরবরাহ থাকলেও তা সুষমভাবে বিতরণ না হওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকেই বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সবজি, ভুট্টা ও অন্যান্য রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ বোরো ধান পেকে গেছে। এগুলো কাটার পর্যায়ে রয়েছে, তাই বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। অন্যান্য ফসল বা সবজি ক্ষেতেও খুব বেশি সেচের প্রয়োজন নেই। তবে ধান মাড়াইয়ে জন্য ডিজেলের প্রয়োজন পড়বে। এর জন্য আমরা মেশিন অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষককে প্রত্যায়ন পত্র দেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সংকটের ‘স’ বলতে নারাজ আমি। জেলায় পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ রয়েছে। কোনো কৃষক চাহিদামতো তেল না পেলে অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের মতে, কাগজে-কলমে সরবরাহ থাকলেও বাস্তবে তারা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না। ফলে সেচ ব্যাহত হয়ে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

চুয়াডাঙ্গায় চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ, সেচ ব্যাহত, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল ডিজেল চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা। তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাঠের ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। ভোর থেকে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ক্ষেত্রে ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সীমিত পরিমাণ তেল মিলছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে মাঠে থাকা অধিকাংশ ফসল বড় হয়ে গেছে এবং খুব বেশি সেচের প্রয়োজন নেই।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেলায় কোন তেলের সংকট নেই। কৃষকরা তেল না পেলে অভিযোগ করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমার ৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল রয়েছে। দিনে ২ থেকে ৩ লিটার তেল প্রয়োজন হয়, কিন্তু পাচ্ছি ১ থেকে ২ লিটার। আজ লাউয়ের ক্ষেতে অর্ধেক পানি দিতে পেরেছি, বাকি অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

কৃষক শুকুর আলী জানান, ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৩টায় তেল পাই, তাও খুব কম। ভুট্টা খেতে সেচ দিতে পারছি না। বৃষ্টি নেই, তেলও নেই, ফসল বাঁচানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক আরিফ মিয়া বলেন, তেলের কার্ড থাকলেও সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে দিনমজুরির কাজও করা যায় না। একদিনে তেলের চাহিদা পূরণ হয় না, ফলে জমিতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।

কৃষকদের অভিযোগ, তেলের সরবরাহ থাকলেও তা সুষমভাবে বিতরণ না হওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকেই বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সবজি, ভুট্টা ও অন্যান্য রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ বোরো ধান পেকে গেছে। এগুলো কাটার পর্যায়ে রয়েছে, তাই বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। অন্যান্য ফসল বা সবজি ক্ষেতেও খুব বেশি সেচের প্রয়োজন নেই। তবে ধান মাড়াইয়ে জন্য ডিজেলের প্রয়োজন পড়বে। এর জন্য আমরা মেশিন অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষককে প্রত্যায়ন পত্র দেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সংকটের ‘স’ বলতে নারাজ আমি। জেলায় পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ রয়েছে। কোনো কৃষক চাহিদামতো তেল না পেলে অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের মতে, কাগজে-কলমে সরবরাহ থাকলেও বাস্তবে তারা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না। ফলে সেচ ব্যাহত হয়ে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।