০৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়ার টাকার দ্ব ন্দ্বে দুই যুবককে চুয়াডাঙ্গায় ডেকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৯

অনলাইন জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি তিনতলা ভবনের বেজমেন্টে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জুয়া ও মাদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল বিকেল পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের ভবনের বেজমেন্টে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালান। অভিযানে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করা হয় এবং মোট নয়জনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুলের ছেলে মো. রাকিব (২৪), আবদুর রহমানের ছেলে মো. আলভী (২৩), মো. মোস্তাফিজুরের ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দারের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (৩০), মো. আল আমিনের ছেলে মো. নাফি (১৮), কোটমোড় এলাকার আলী কদরের ছেলে মো. রিফাত (১৯) এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মো. জুয়েল (২৪)। এ ছাড়া আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উদ্ধার দুই যুবক

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতনের শিকার ও নির্যাতনকারী উভয়েই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতের প্রমান পাওয়া গেছে। মূলত জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কৌশলে চুয়াডাঙ্গায় ডেকে এনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে আমরা খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার পর তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

দুজনকে আটকে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, চাঁদা দাবির ঘটনাটি একদম বানোয়াট। তবে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান গণমাধ্যমে বলেন, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং এসব ডিভাইসে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল ইমদাদুলের

অনলাইন জুয়ার টাকার দ্ব ন্দ্বে দুই যুবককে চুয়াডাঙ্গায় ডেকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি তিনতলা ভবনের বেজমেন্টে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জুয়া ও মাদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল বিকেল পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের ভবনের বেজমেন্টে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালান। অভিযানে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করা হয় এবং মোট নয়জনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুলের ছেলে মো. রাকিব (২৪), আবদুর রহমানের ছেলে মো. আলভী (২৩), মো. মোস্তাফিজুরের ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দারের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (৩০), মো. আল আমিনের ছেলে মো. নাফি (১৮), কোটমোড় এলাকার আলী কদরের ছেলে মো. রিফাত (১৯) এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মো. জুয়েল (২৪)। এ ছাড়া আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উদ্ধার দুই যুবক

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতনের শিকার ও নির্যাতনকারী উভয়েই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতের প্রমান পাওয়া গেছে। মূলত জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কৌশলে চুয়াডাঙ্গায় ডেকে এনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে আমরা খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার পর তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

দুজনকে আটকে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, চাঁদা দাবির ঘটনাটি একদম বানোয়াট। তবে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান গণমাধ্যমে বলেন, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং এসব ডিভাইসে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।