০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ ডিগ্রিতে নামল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নামল ১৫ ডিগ্রীতে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। আর এই শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু রস আহরণের লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি গাছিরা। আর কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে উঠবে খেজুর গুড়।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়তেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে। হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আজ সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। এটি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। আগামী দুদিম তাপমাত্রা কমতে পারে। এরপর আবারো কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শীত নামতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি খেজুর গাছিরা। তারা ইতিমধ্যে গাছে নল বসানোর কাজ শুরু করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে উঠবে তাজা খেজুর রস ও গুড়।

তবে এই সময়টা সবচেয়ে কষ্টের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। সকালবেলা হিমেল বাতাসে রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চালাতে ভোগান্তির শেষ নেই।

চুয়াডাঙ্গা শহরের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুদিন ভোরে বাইরে বের হলেই শরীরে কাঁপুনি লাগে। রাস্তায় যাত্রীও কমে গেছে। দিনে যত আয় হয়, তবুও পেটে দায়ে রিকসা চালাতে হবে।

একই কথা বলেন ভ্যানচালক আলম হোসেন, গত ২-৩ দিন যাবত শীত অনুভব হচ্ছে। বয়স বাড়ছে। তবুও ঘর থেকে বের হতেই হয়, না হলে সংসার চলবে কেমনে?

দিনমজুর শ্রমিক ছালাম মিয়া জানান,শীত বাড়ছে, কিন্তু কাজের সুযোগ কমে গেছে। সকালে কেউ কাজে ডাকে না। দুপুরে একটু রোদ উঠলে তবেই মাঠে যাই।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদরের দীননাথপুর গ্রামের তরুণ চাষী সাদ্দাম হোসেন জানালেন, খেজুর গাছ তোলা এখন তাদের পারিবারিক পেশা। আমার বাপ-দাদারা খেজুরের গাছ তুলতো, এখন আমি সেই কাজ করছি। এ বছর আমার একশ খেজুর গাছ আছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে। অন্য বছরের মতো এবারও গুড় দেশের নানা প্রান্তে এবং দেশের বাইরে পাঠাবো বলেন তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

১৫ ডিগ্রিতে নামল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নামল ১৫ ডিগ্রীতে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। আর এই শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু রস আহরণের লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি গাছিরা। আর কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে উঠবে খেজুর গুড়।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়তেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে। হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আজ সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। এটি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। আগামী দুদিম তাপমাত্রা কমতে পারে। এরপর আবারো কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শীত নামতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি খেজুর গাছিরা। তারা ইতিমধ্যে গাছে নল বসানোর কাজ শুরু করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে উঠবে তাজা খেজুর রস ও গুড়।

তবে এই সময়টা সবচেয়ে কষ্টের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। সকালবেলা হিমেল বাতাসে রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চালাতে ভোগান্তির শেষ নেই।

চুয়াডাঙ্গা শহরের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুদিন ভোরে বাইরে বের হলেই শরীরে কাঁপুনি লাগে। রাস্তায় যাত্রীও কমে গেছে। দিনে যত আয় হয়, তবুও পেটে দায়ে রিকসা চালাতে হবে।

একই কথা বলেন ভ্যানচালক আলম হোসেন, গত ২-৩ দিন যাবত শীত অনুভব হচ্ছে। বয়স বাড়ছে। তবুও ঘর থেকে বের হতেই হয়, না হলে সংসার চলবে কেমনে?

দিনমজুর শ্রমিক ছালাম মিয়া জানান,শীত বাড়ছে, কিন্তু কাজের সুযোগ কমে গেছে। সকালে কেউ কাজে ডাকে না। দুপুরে একটু রোদ উঠলে তবেই মাঠে যাই।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদরের দীননাথপুর গ্রামের তরুণ চাষী সাদ্দাম হোসেন জানালেন, খেজুর গাছ তোলা এখন তাদের পারিবারিক পেশা। আমার বাপ-দাদারা খেজুরের গাছ তুলতো, এখন আমি সেই কাজ করছি। এ বছর আমার একশ খেজুর গাছ আছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে। অন্য বছরের মতো এবারও গুড় দেশের নানা প্রান্তে এবং দেশের বাইরে পাঠাবো বলেন তিনি।