চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।
আজ বুধবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আকবর আলী আসামিদের উপস্থিতিতে দুটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার (বাবু) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বামানগরের কাশেম আলীর ছেলে স্বাধীন আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার মৃত বিপ্লব হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের জমির উদ্দিন।
এদিকে, রায় ঘোষনার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। বৃদ্ধ মাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে দেখা যায় এক আসামীকে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ জুন পারিবারিক কলহের জের ধরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুরে মাঝপাড়ার মৃত রমজান মন্ডলের ছেলে বাবলু রহমানকে পূর্বশত্রুতার জেরে কোদাল দিয়ে তার মাথায় স্বজোরে আঘাত করেন করেন একই এলাকার মৃত ইব্রাহীম মন্ডলের ছেলে জমির উদ্দীন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত বাবলু রহমানের স্ত্রী চায়না খাতুন বাদী হয়ে একই গ্রামের জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈকত আলী জমির উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার (১৬ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা জেলা দায়রা জজ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি জমির উদ্দীনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। এছাড়াও আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অপর মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়,
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা গ্রামের কামাল হোসেনের সাথে একই গ্রামের সালাউদ্দীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০২২ সালের ৯ মে রাত ১০টার দিকে কামাল হোসেনকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তিনি তার স্ত্রীকে জানান, স্বাধীন, রফিক, স্বপন, স্বাধীনের স্ত্রী, স্বাধীনের শাশুড়ি, শালিকাসহ অন্যরা মিলে তাকে কুপিয়ে জখম করেছে। এ কথা বলতে বলতে তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা নিহতের স্ত্রী সেলিমা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আকরামুল হোসাইন মামলার তদন্ত শেষে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষগ্রহণ শেষে বুধবার (১৬ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে স্বাধীন আলী ও আশিকুর রহমান আশিক ওরফে বাদশাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সেই সাথে তাদের দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। এছাড়া এই মামলায় অন্য আসামি রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, ইসমত আরা (বিউটি), সায়মা নিগার ও রাহুল কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার (বাবু) বলেন, পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, জমিজমা সংক্রান্ত অনেকেই ঝামেলায় থাকেন। আগামীতে এই ধরনের অপরাধ যেন পৃনরাবৃত্তি না ঘটে এই হত্যাকান্ডের রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এএইচ
আব্দুল্লাহ আল মামুন 

























