১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপের ছোবল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের সাপের কামড়ে ক্বারী শাফায়াত উল্লাহর (৩৭) নামের জামায়াত নেতা ও ইসলামী বক্তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ক্বারী শাফায়াত উল্লাহ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী, ইসলামি বক্তা এবং স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন শাফায়াত উল্লাহ। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থতা অনুভব করে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি পাশে সাপ দেখতে পান এবং দ্রুত পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাত প্রায় ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপ কামড় দেয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয়ভাবে ক্বারী শাফায়াত উল্লাহ ছিলেন সুপরিচিত একজন ব্যক্তি। তাঁর একটি কসমেটিকসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতেন এবং ইসলামি দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মোশাররফ হোসেন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন৷ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি ইউনিয়ন ওলামা বিভাগের সভাপতি অর্থাৎ জামায়াত নেতা ছিলেন।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, গ্রামবাসী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

চুয়াডাঙ্গায় ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপের ছোবল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ১১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের সাপের কামড়ে ক্বারী শাফায়াত উল্লাহর (৩৭) নামের জামায়াত নেতা ও ইসলামী বক্তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ক্বারী শাফায়াত উল্লাহ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী, ইসলামি বক্তা এবং স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন শাফায়াত উল্লাহ। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থতা অনুভব করে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি পাশে সাপ দেখতে পান এবং দ্রুত পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাত প্রায় ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপ কামড় দেয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয়ভাবে ক্বারী শাফায়াত উল্লাহ ছিলেন সুপরিচিত একজন ব্যক্তি। তাঁর একটি কসমেটিকসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতেন এবং ইসলামি দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মোশাররফ হোসেন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন৷ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি ইউনিয়ন ওলামা বিভাগের সভাপতি অর্থাৎ জামায়াত নেতা ছিলেন।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, গ্রামবাসী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এএইচ