০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ

দেশের দক্ষিণ–পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। হিমেল বাতাস, কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে জেলায় এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১শতাংশ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়লেও কাজ থেমে নেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের। ভোর থেকেই ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে কাজের মাঠে ছুটছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা শহরে কাজ করতে আসা কাঠমিস্ত্রি শাহিন আলী বলেন, ভোর ছয়টার পর থেকেই কাজে বের হয়েছি। কুয়াশা আর বাতাসে শরীর কাপছে। কিন্তু উপায় নেই। একদিন কাজ না করলে সংসার চলবে না।

রিকশাচালক জালাল উদ্দিন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, রাতে রিকশা চালাই, দিনে বিশ্রাম করি। গত কয়েকদিন ধরে শীত অনেক বেড়েছে। ভোরের দিকে বাতাসে হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে চললে রাতে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাবে।”

অপরদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শীতজনিত কারণে ডায়রিয়া ও শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। এরমধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-ঠান্ডা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে তুলনামূলক বয়োবৃদ্ধ রোগীদের চাপ কম।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, প্রতিদিন শীতজনিত কারণে আউটডোরে ২০০-৩০০ শিশুসহ বয়োবৃদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। শৈত্যপ্রবাহেরও সম্ভাবনা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের দক্ষিণ–পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। হিমেল বাতাস, কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে জেলায় এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১শতাংশ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়লেও কাজ থেমে নেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের। ভোর থেকেই ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে কাজের মাঠে ছুটছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা শহরে কাজ করতে আসা কাঠমিস্ত্রি শাহিন আলী বলেন, ভোর ছয়টার পর থেকেই কাজে বের হয়েছি। কুয়াশা আর বাতাসে শরীর কাপছে। কিন্তু উপায় নেই। একদিন কাজ না করলে সংসার চলবে না।

রিকশাচালক জালাল উদ্দিন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, রাতে রিকশা চালাই, দিনে বিশ্রাম করি। গত কয়েকদিন ধরে শীত অনেক বেড়েছে। ভোরের দিকে বাতাসে হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে চললে রাতে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাবে।”

অপরদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শীতজনিত কারণে ডায়রিয়া ও শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। এরমধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-ঠান্ডা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে তুলনামূলক বয়োবৃদ্ধ রোগীদের চাপ কম।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, প্রতিদিন শীতজনিত কারণে আউটডোরে ২০০-৩০০ শিশুসহ বয়োবৃদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। শৈত্যপ্রবাহেরও সম্ভাবনা হয়েছে।