০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা-ভাঙচুর : সাংবাদিককে মারধর

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাদক কারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে এক সাংবাদিককে মারধর ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলের নেতৃত্বে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি মদ্যপ অবস্থায় দর্শনা প্রেসক্লাবের আশপাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ করে এবং প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং মাথায় আঘাত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হান্নান প্রাণ বাঁচাতে প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।

কিন্তু সেখানেও রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চঞ্চলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে লাইট বন্ধ করে দেয় এবং অন্ধকারের মধ্যে সাংবাদিক আব্দুল হান্নানের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতীক। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল এবং এটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।” তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়াল হোসেন বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃ ত্যু

দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা-ভাঙচুর : সাংবাদিককে মারধর

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাদক কারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে এক সাংবাদিককে মারধর ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলের নেতৃত্বে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি মদ্যপ অবস্থায় দর্শনা প্রেসক্লাবের আশপাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ করে এবং প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং মাথায় আঘাত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হান্নান প্রাণ বাঁচাতে প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।

কিন্তু সেখানেও রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চঞ্চলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে লাইট বন্ধ করে দেয় এবং অন্ধকারের মধ্যে সাংবাদিক আব্দুল হান্নানের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতীক। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল এবং এটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।” তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়াল হোসেন বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

এএইচ