চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে এক মুদিদোকানি ও বিকাশ এজেন্টকে মারধর করে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং পরবর্তীতে এক লাখ টাকা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাকে আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প করে দিতে হবে, অন্যথায় তার মোটরসাইকেল নিয়ে নেওয়া হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয় বলে থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে তপু তিতাস, সজল, মুন্না, ইকবাল, সজীব ও আশাসহ সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. কাওছার আলী (৩২)।

অভিযোগে কাওছার আলী উল্লেখ করেন, তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে তার একটি মুদিদোকান ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ২ নম্বর বিবাদী তিতাস ও ৭ নম্বর বিবাদী আশা তার ছোট ভাই সুমনের কাছে ইয়াবা সেবনের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সুমন তাকে জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ১ নম্বর বিবাদী তপু তার মোবাইল নম্বর থেকে কাওছার আলীর মোবাইল ফোনে কল করে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পুনরায় টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তপু, তিতাস ও সজল তার দোকানে গিয়ে ক্যাশে কত টাকা আছে জানতে চান বলে অভিযোগ করেন কাওছার। তিনি ড্রয়ারে এক হাজার টাকার কম রয়েছে জানালে অভিযুক্তরা ড্রয়ারে থাকা ৪০০ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে আরও টাকা না দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে আবার আসার কথা বলে তারা চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ৭ নম্বর বিবাদী আশা তার কাছে টাকা তুলতে আসেন। টাকা না থাকার কথা জানালে তিনি কাওছারের কাছে টাকা আছে বলে প্রশ্ন করেন। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ১ নম্বর বিবাদী তপু ফোন করে আবারও টাকা দাবি করেন। কাওছার টাকা নেই বলে জানালে তাকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাওছার আলীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তপু ও তিতাস তার দোকানে এসে তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগর স্কুলের গেট খুলতে সহযোগিতা করেন। সেখানে নৈশপ্রহরী সাগরের সামনে তাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন কাওছার। এ সময় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাওছার আলী আরও অভিযোগ করেন, তাকে আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প করে দিতে হবে, অন্যথায় তার মোটরসাইকেল নিয়ে নেওয়া হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসেছেন। বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















