মাদকের ভয়াল থাবা থেকে ছাত্রসমাজকে দূরে রাখা ও বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলাজুড়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজারের অধিক অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সচেতনতামূলক শুভেচ্ছা পত্র।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ ও ৫টি মাদ্রাসার প্রায় ১৯ হাজারের অধিক অভিভাবককে এ শুভেচ্ছা পত্র পাঠানো হয়েছে।

কর্মসূচির শুরুতে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনারুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্য সচিব আল ইমরান রাসেল, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসনাত রিংকু, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক তন্ময়, নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হক, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজল রহমান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাছিদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে জেলা, উপজেলা, পৌর, কলেজ ও ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে শুভেচ্ছা পত্র পৌঁছে দেন।
মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে সমাজের নানা নেতিবাচক কাজ বন্ধ করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধেও পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজার অভিভাবকের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি মূলত একটি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, প্রতিটি পরিবার তাদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হোক এবং শিক্ষার্থীরা মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক।
ছাত্রদল নেতা মোমিন মালিতা বলেন, শুধু একটি কর্মসূচির মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকব না। প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মাদক, বাল্যবিবাহসহ সমাজের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 























