চুয়াডাঙ্গার দর্শনার শ্যামপুরে স্বামী-স্ত্রীর পরপর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৌদি আরবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মো. সফর উদ্দীন (৪০) মারা যাওয়ার পর ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার স্ত্রী রাখি রাশিদুন নাহার ওরফে ববিতা খাতুন (৩৫)। স্বামী-স্ত্রীর এমন পরপর মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের আভা শহরে কর্মরত অবস্থায় গত ১০ আগস্ট ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সফর উদ্দীন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ১৮ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে, স্বামীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দেশে থাকা স্ত্রী রাখি রাশিদুন নাহার ওরফে ববিতা খাতুনও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর ২০ আগস্ট দুপুরে তারও মৃত্যু হয়।

নিহত সফর উদ্দীন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার শ্যামপুর গ্রামের মৃত শওকত আলী মোল্লার ছেলে। তার বড় ভাই শরীফ উদ্দীন দর্শনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এবং দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বামী-স্ত্রীর পরপর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্যামপুরসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবারের পরিবেশ। একসঙ্গে দুই স্বজনকে হারানোর বেদনায় শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে যেন নেমে এসেছে শোকের ভার।
মৃত্যুকালে সফর উদ্দীন বৃদ্ধা মা, এক ছেলে, এক মেয়ে, তিন ভাই, তিন বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্বামী-স্ত্রীর এমন পরপর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে গভীর শোক ও বেদনার আবহ। মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনের এমন বিদায় ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
এএইচ
দামুড়হুদা অফিস 






















