০৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিবির মানবিকতায় মায়ের মরদেহের শেষ দর্শন পেলেন মেয়ে

সীমান্ত শুধু বিভক্তির দেয়াল নয়, কখনও কখনও তা মানবিকতার সেতুবন্ধনও হয়ে ওঠে। এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার জন্ম দিয়েছে বর্ডার গার্ড চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)। মৃত ভারতীয় নাগরিকের কন্যাকে সীমান্ত শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ দিয়ে তারা মানবতার ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কাঁটাতারের বেড়া দু’দেশকে আলাদা করে রাখে। কিন্তু কখনও কখনও সেই সীমান্তই হয়ে ওঠে মানবিকতার সেতুবন্ধন।

আজ শনিবার (৬ সেপ্টম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের নদিয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৫) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল শুক্রবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৃত্যুবরণ্র করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। এর মধ্যে তাঁর এক কন্যা পারভিনা বেগম বহু বছর আগে বৈবাহিক সূত্রে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মাতৃবিয়োগের করুণ সংবাদে ভেঙে পড়া এই কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার জন্য চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) নিকট আকুতি জানালে বিজিবি সেটিকে একজন সন্তানের চিরন্তন অধিকারের আবেদন হিসেবে গ্রহণ করে। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগীতায় সকাল ১০টা থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখায় জাহানারা বেগমের মরদেহ আনা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দর্শনের সুযোগ পান। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিজিবি শুধু সুরক্ষা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে থাকে। এই ধরনের ঘটনা সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে আস্থা ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন রচনা করে।” বিজিবি ও বিএসএফ-এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকবে। সীমান্তে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিকতাও যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে, তার এক অনন্য প্রমাণ এই আয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

বিজিবির মানবিকতায় মায়ের মরদেহের শেষ দর্শন পেলেন মেয়ে

প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সীমান্ত শুধু বিভক্তির দেয়াল নয়, কখনও কখনও তা মানবিকতার সেতুবন্ধনও হয়ে ওঠে। এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার জন্ম দিয়েছে বর্ডার গার্ড চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)। মৃত ভারতীয় নাগরিকের কন্যাকে সীমান্ত শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ দিয়ে তারা মানবতার ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কাঁটাতারের বেড়া দু’দেশকে আলাদা করে রাখে। কিন্তু কখনও কখনও সেই সীমান্তই হয়ে ওঠে মানবিকতার সেতুবন্ধন।

আজ শনিবার (৬ সেপ্টম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের নদিয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৫) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল শুক্রবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৃত্যুবরণ্র করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। এর মধ্যে তাঁর এক কন্যা পারভিনা বেগম বহু বছর আগে বৈবাহিক সূত্রে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মাতৃবিয়োগের করুণ সংবাদে ভেঙে পড়া এই কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার জন্য চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) নিকট আকুতি জানালে বিজিবি সেটিকে একজন সন্তানের চিরন্তন অধিকারের আবেদন হিসেবে গ্রহণ করে। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগীতায় সকাল ১০টা থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখায় জাহানারা বেগমের মরদেহ আনা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দর্শনের সুযোগ পান। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিজিবি শুধু সুরক্ষা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে থাকে। এই ধরনের ঘটনা সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে আস্থা ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন রচনা করে।” বিজিবি ও বিএসএফ-এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকবে। সীমান্তে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিকতাও যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে, তার এক অনন্য প্রমাণ এই আয়োজন।