চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্ট মোড় থেকে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মারধর করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এরপরই খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুজরুকগড়গড়ি এলাকার একটি আমবাগান থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কোর্টমোড় এলাকা থেকে প্রকাশ্যে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় ৭-৮ জনের সংবদ্ধ দুর্বৃত্ত।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়া এলাকার খয়বার আলীর ছেলে। তিনি শহরের স্বর্ণপট্টির ‘আনিসা জুয়েলার্স’এর মালিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ৭-৮ জন যুবক সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি মারধর করতে করতে টেনে-হিঁচড়ে পাখিভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও কোর্ট পুলিশসহ স্থানীয়রা কেউই এগিয়ে আসেননি। এ ঘটনার ৪-৫ মিনিটের মধ্যে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসলে প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে বিস্তারিত শুনে তাদের পিছু নেন। এর বেশি জানিনা।
সদর থানা পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে আলমগীর হোসেন চেক জালিয়াতি মামলায় কোর্টে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় বুজরুকগড়গড়ি এলাকার কবরস্থানের পেছন দিকের একটি আমবাগান থেকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালয়ে চলমান মামলার জেরেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সব টিমকে জানানো হয়। আমি নিজে একটি টিম নিয়ে অভিযানে নামি। পরে গোপন সংবাদের মাধ্যমে বুজরুকগড়গড়ি ঈদগাহ ময়দান ও কবরস্থানের পেছনের আমবাগানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাপলা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, আলমগীরের শরীরে গুরুতর আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 






















