০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া?

দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে)। তবে ঈদের এই আনন্দের দিনে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। এর প্রভাবেই মূলত ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই প্রবণতা দেখা যাবে। 

বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের দিনে তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। 

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৩৭ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে খুলনা ও মোংলা অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ, যথাক্রমে ৩৫.৬ এবং ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঈদের দিন বাদেও পরবর্তী ৪ দিনও (২৯-৩১ মে) দেশের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।

এরমধ্যে ২৯ মে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এই বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এরপর ৩০ মে থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। এদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

সবশেষ ৩১ মে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিন চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় বন্ধুর বাটামের আঘাতে প্রাণ গেল ইমদাদুলের

কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া?

প্রকাশের সময় : ১২:২৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে)। তবে ঈদের এই আনন্দের দিনে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। এর প্রভাবেই মূলত ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই প্রবণতা দেখা যাবে। 

বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের দিনে তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। 

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৩৭ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে খুলনা ও মোংলা অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ, যথাক্রমে ৩৫.৬ এবং ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঈদের দিন বাদেও পরবর্তী ৪ দিনও (২৯-৩১ মে) দেশের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।

এরমধ্যে ২৯ মে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এই বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এরপর ৩০ মে থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। এদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

সবশেষ ৩১ মে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিন চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।