০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমামের ভাতা নিজ নামে নিলেন জামায়াত নেতা

মসজিদের ইমাম না হয়েও সরকার ঘোষিত ইমামের ভাতা নিজ নামে করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদ কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ঈমাম মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ভাতা প্রকল্পে ২০২৬ ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খাদেম ও মোয়াজ্জিম ওই ভাতা প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ইমামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পরে জানা যায়, ওই ভাতা প্রকল্পে ইমামের নামের তথ্য গোপন রেখে ওই ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নয়ন মিয়া জালিয়াতি করে নিজ নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেন।

চতরা আহমদিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও পলিখিয়ার দক্ষিণ জামে মসজিদের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকার থেকে ইমাম মোয়াজ্জেম খাদেমদের তালিকা চায়। আমরা তালিকা করে দিয়েছি। পরে দেখি আমাদের ইমাম বাদ পড়ে গেছে। আমাদের ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি নয়নের নাম সেখানে যুক্ত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একটা ইমাম মানে নেতা, আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। এই ছেলের পিছনে আমরা নামাজ পড়ি না, তার নাম এখানে আসবে কেন? নয়নের নাম আসার পরে হঠাৎ করে এসে আমাদের এখানে নামাজ পড়ায়। তাই এখানে অনেকেই নামাজ পড়ি না। আমরা চাই, এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক। প্রকৃতপক্ষে যে ইমাম তিনি থাকুক।

ওই মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান বলেন, আমি মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা থেকেই ওখানে ইমামতি করছি। জামায়াতের সেক্রেটারি নয়ন হঠাৎ করে এসেই তার নাম ঢুকে দিয়েছে। ফলে আমি সেখান থেকে বঞ্চিত আছি। এখন প্রকৃতপক্ষে যা হওয়া দরকার সেটাই দাবি করছি।

জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়ন মিয়া বলেন, এখানে পেশ ইমাম নেই। আশপাশে খুঁজে পাচ্ছে না কাকে দেবে। সবাই মিলে আমার নাম দিয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি সভাপতি না। কাজটা আটকানোর জন্য আমাকে পেশ ইমাম করেছে। কারণ, এখানে যিনি আছেন, তিনি খতিব। তাকে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগ হতেই পারে। বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বাঁশ কেনার কথা বলে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে ধ র্ষ ণ, অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

ইমামের ভাতা নিজ নামে নিলেন জামায়াত নেতা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মসজিদের ইমাম না হয়েও সরকার ঘোষিত ইমামের ভাতা নিজ নামে করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদ কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ঈমাম মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ভাতা প্রকল্পে ২০২৬ ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খাদেম ও মোয়াজ্জিম ওই ভাতা প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ইমামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পরে জানা যায়, ওই ভাতা প্রকল্পে ইমামের নামের তথ্য গোপন রেখে ওই ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নয়ন মিয়া জালিয়াতি করে নিজ নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেন।

চতরা আহমদিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও পলিখিয়ার দক্ষিণ জামে মসজিদের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকার থেকে ইমাম মোয়াজ্জেম খাদেমদের তালিকা চায়। আমরা তালিকা করে দিয়েছি। পরে দেখি আমাদের ইমাম বাদ পড়ে গেছে। আমাদের ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি নয়নের নাম সেখানে যুক্ত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একটা ইমাম মানে নেতা, আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। এই ছেলের পিছনে আমরা নামাজ পড়ি না, তার নাম এখানে আসবে কেন? নয়নের নাম আসার পরে হঠাৎ করে এসে আমাদের এখানে নামাজ পড়ায়। তাই এখানে অনেকেই নামাজ পড়ি না। আমরা চাই, এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক। প্রকৃতপক্ষে যে ইমাম তিনি থাকুক।

ওই মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান বলেন, আমি মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা থেকেই ওখানে ইমামতি করছি। জামায়াতের সেক্রেটারি নয়ন হঠাৎ করে এসেই তার নাম ঢুকে দিয়েছে। ফলে আমি সেখান থেকে বঞ্চিত আছি। এখন প্রকৃতপক্ষে যা হওয়া দরকার সেটাই দাবি করছি।

জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়ন মিয়া বলেন, এখানে পেশ ইমাম নেই। আশপাশে খুঁজে পাচ্ছে না কাকে দেবে। সবাই মিলে আমার নাম দিয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি সভাপতি না। কাজটা আটকানোর জন্য আমাকে পেশ ইমাম করেছে। কারণ, এখানে যিনি আছেন, তিনি খতিব। তাকে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগ হতেই পারে। বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখা হবে।