কয়েকদিন বিরতি দিয়ে আবারো টানা দুদিন চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ভ্যাপসা গরম ও তীব্র রোদে ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছেন গ্রাম-গঞ্জের মানুষেরা। জেলাবাসি বৃষ্টি চাইলেও ধান চাষীরা এখনি বৃষ্টি চাইছেন না।
আজ শনিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ৩টায় সারাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪৮ শতাংশ।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি ৭ সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
এদিকে, জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গা বলেন, আগামী ৩ দিন আরও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ৪৩ থেকে ৪৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। গরমে এসি ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে বিদ্যুতের ব্যবহারও। ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। দিনে বাসায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে মশার যন্ত্রণা। গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় সারা রাত নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে।
অপরদিকে, জেলা সদর হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়া ও শিশু রোগীর সংখ্যা। ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চলছে চিকিৎসা। এছাড়া বহির্বিভাগেও রয়েছে রোগীদের চাপ। প্রতিদিন গড়ে গরমজনিত কারণে ৭০০-৮০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা: আতাউর রহমান।
গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন সে তুলনায় না বাড়ায় লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবু হাসান।
তিনি বলেন, জেলায় গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের আওয়াধীন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১০৫ মেগাওয়াড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে আমরা পাচ্ছি ৯০-৯২ মেগাওয়ার্ড। আমাদের মূল গ্রীডের যে ধারণক্ষমতা, সেখানেও টানতে পারছেনা। ঘাটতি পূরণ করতেই লোডশেডিং চলছে।
এদিকে, তীব্র গরমে জেলাবাসি অতিষ্ঠ হয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করলেও ধান চাষিরা এখনি বৃষ্টি চাইছেন না।
এ বিষয়ে কয়েকজন ধান চাষী রেডিও চুয়াডাঙ্গা বলেন, তীব্র গরমে আমরাও অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। তবে এখন রেবো ধান কাটার মৌসুম চলছে। এ সময় বৃষ্টি হলে ধান চাষীদের অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন তারা।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 






















