চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, মোবাইল চোর ও জুয়া খেলার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ৮৮০ টাকা, একটি চোরাই মোবাইল ফোন, দুই সেট তাস ও নগদ ৩ হাজার ১০৬ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
অভিযানের অংশ হিসেবে রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর কবীর সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামালপুর বটতলা মোড়ে রবজেলের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৫০ পিস মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৮৮০ টাকাসহ আমিরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত কুদরত আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অপরদিকে, রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোবিন্দপুর একচেঞ্জপাড়ায় মোবাইল ফোন চুরির সময় স্থানীয় লোকজন শাওন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে এসআই শোভন কুমার কুন্ডু ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেন। এ সময় তার কাছ থেকে পুরোনো কালো রঙের একটি XTRA মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনটির আনুমানিক মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা।
পুলিশ জানায়, শাওনকে সামারি ট্রায়াল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. রইচ উদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত্রীকালীন অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাংবাড়ীয়া গ্রামের একটি ভবনের নিচতলার গোডাউনে অভিযান চালান। সেখানে তাস দিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ভাংবাড়ীয়া গ্রামের আসলাম (৪০), জিহাদ বিশ্বাস (২১), সাইদ ইসলাম (২১), আলাল উদ্দিন (৩৪) ও আরজু আরাফাত ওরফে আশিক (১৮)।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে দুই সেট তাস, নগদ ৩ হাজার ১০৬ টাকা ও একটি প্লাস্টিকের চট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “মাদক, চোরাচালান, চুরি ও জুয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এএইচ
আলমডাঙ্গা অফিস 






















