নতুন বাড়িতে ওঠা হলো না চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী গোলাম কিবরিয়ার। তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের একটি বাড়ি। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ, নতুন ঠিকানায় পৌঁছেছিল আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল। সেই স্বপ্নের বাড়িতে ওঠার আগেই বিদ্যুতের নির্মম ছোবলে থেমে গেল গোলাম কিবরিয়ার জীবন। স্বপ্নের বাড়িতে সংসার গোছানোর বদলে শেষবারের মতো নিথর হয়ে ফিরতে হলো তাকে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের পৌর কলেজপাড়া এলাকায় নিজের নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন গোলাম কিবরিয়া। পরে স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত গোলাম কিবরিয়া চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার মৃত কায়েম আলী ওরফে পির সাহেবের ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে বেয়ারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। পরে চুয়াডাঙ্গা শহরের পৌর কলেজপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন। সেখানেই নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ার স্বপ্নে সেখানেই জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সাধনায় বাড়িটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।
স্বপ্নের সেই বাড়িতে অবশেষে ওঠার প্রস্তুতিও চলছিল। গত শুক্রবার নতুন বাড়িতে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন সকালেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
পরিবার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে নতুন বাড়িতে গ্রাইন্ডিং মেশিনের বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন গোলাম কিবরিয়া। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যে বাড়িতে নতুন করে জীবনের গল্প সাজানোর কথা ছিল, যে ঘরে সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন ভবিষ্যতের—সেই বাড়িতে ওঠার আগেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। একদিন আগেই যেখানে ছিল নতুন সংসারের প্রস্তুতি, পরদিন সেখানেই নেমে এলো মৃত্যুর শোক।
গোলাম কিবরিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বহুদিনের স্বপ্নের বাড়িটি এখন আর আনন্দের ঠিকানা নয়; প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় সেটিই যেন হয়ে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতির সাক্ষী।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জেনেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইননুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 












