১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর ৪ গ্রামে আজ ঈদ

আজ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার চার গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদ উদযাপন করেন। প্রায় ১০০ বছর ধরে বাংলাদেশের একদিন আগেই তারাবির নামাজ পড়ে রোজা শুরু করেন তারা। এ বছরও এসব গ্রামের মানুষ একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।

আজ বুধবার (১০ এপ্রিল) দুই উপজেলার ৯টি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন তারা।

গ্রামগুলো হলো- নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।

যে মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করা হবে
বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের সিনিয়র মাদ্রাসা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ পোদ্দার বাড়ি জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের নগর বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, পশ্চিম বসন্তবাগ গ্রামের মুন্সি বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, ফাজিলপুর গ্রামের দায়রা বাড়ির জামে মসজিদ, বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের জামে মসজিদ ও নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারীঘর, হরিণারায়নপুর রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

জানা যায়, বড় পীর আবু মুহম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (রঃ) এর মতাদর্শে তৈরি হয় কাদেরিয়া তরিকা। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হরিণারায়নপুর, বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগে রোজা রাখে। এছাড়াও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকে।

কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, আমার বাড়িতে দরবার শরীফ। প্রতিবছর আমরা তারাবির নামাজ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আদায় করি। সৌদির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করি। পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি।

রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফের মুসল্লি আবু তাহের বলেন, আমার দাদারা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে পালন করেছেন। আমরাও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারাবির নামাজ আদায় করেছি। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদগাহ যাবো। এটাই আমাদের আনন্দ। আমরা খুশি। একদিন আগেই ঈদ করবো ইনশাআল্লাহ।

রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফের ঈদের জামায়াতের ইমাম হাফেজ মোবারক হোসেন রাকিব বলেন, সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা রোজা ও ঈদুল ফিতর পালন করছি। প্রায় ১০০ বছরের বেশি হবে আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর ৪ গ্রামে আজ ঈদ

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪

আজ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার চার গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদ উদযাপন করেন। প্রায় ১০০ বছর ধরে বাংলাদেশের একদিন আগেই তারাবির নামাজ পড়ে রোজা শুরু করেন তারা। এ বছরও এসব গ্রামের মানুষ একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।

আজ বুধবার (১০ এপ্রিল) দুই উপজেলার ৯টি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন তারা।

গ্রামগুলো হলো- নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।

যে মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করা হবে
বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের সিনিয়র মাদ্রাসা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ পোদ্দার বাড়ি জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের নগর বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, পশ্চিম বসন্তবাগ গ্রামের মুন্সি বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, ফাজিলপুর গ্রামের দায়রা বাড়ির জামে মসজিদ, বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের জামে মসজিদ ও নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারীঘর, হরিণারায়নপুর রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

জানা যায়, বড় পীর আবু মুহম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (রঃ) এর মতাদর্শে তৈরি হয় কাদেরিয়া তরিকা। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হরিণারায়নপুর, বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগে রোজা রাখে। এছাড়াও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকে।

কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, আমার বাড়িতে দরবার শরীফ। প্রতিবছর আমরা তারাবির নামাজ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আদায় করি। সৌদির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করি। পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি।

রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফের মুসল্লি আবু তাহের বলেন, আমার দাদারা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে পালন করেছেন। আমরাও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারাবির নামাজ আদায় করেছি। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদগাহ যাবো। এটাই আমাদের আনন্দ। আমরা খুশি। একদিন আগেই ঈদ করবো ইনশাআল্লাহ।

রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফের ঈদের জামায়াতের ইমাম হাফেজ মোবারক হোসেন রাকিব বলেন, সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা রোজা ও ঈদুল ফিতর পালন করছি। প্রায় ১০০ বছরের বেশি হবে আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি।