০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পান চুরির অপবাদ দিয়ে সালিশ, পরদিন মিলল মরদেহ

নিহত শফিউদ্দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারি গ্রামের মাঝেরপাড়ার মোহাম্মদ আলী বুড়োর ছেলে।

তবে নিহতের বড় ভাইয়ের দাবি, আমার ভাই আত্মহত্যা করেনি, ভাইকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সকালে তালতলা এলাকার মুড়িতলার মাঠে কৃষি কাজের সময় লিছু গাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে, মরদেহের মুখ থেকে বিষাক্ত (ফেনা) জাতীয় কিছুর আলামত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।


তিনি রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শোনা যাচ্ছে পান চুরির অপবাদ দেয়া হয়েছিল। আবার হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আত্মহত্যা কিনা এটা এখনি বলা যাচ্ছেনা। আমরা মরদেহের মুখ পয়জনিং জাতীয় ফেনা ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন (সিআইডি) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহ যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন। আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহতের বড় ভাই রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গত দুদিন আগে শিয়ালমারি গ্রামের আকবার আলীর ছেলে ইসলাম আলীর পান বরজ থেকে পান চুরির ঘটনা ঘটে। এর চুরির অপবাদ দেয়া হয় আমার ছোট ভাই শফিউদ্দিনকে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইসলাম গ্রাম্য সালিসির আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হকসব গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এদিন বিকেল থেকে আমার ভাইকে খুজে পাচ্ছিলাম না। রাতভর খুজেও তাকে পাইনি। আর সালিশে ভাইকে হাজির করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা। আমি বলি আমার ভাই যেহেতু হাজির হয়নি তাহলে যে দোষি হতে পারে, তাই একদিন আমাকে সময় দিতে যেন ভাইকে সঙ্গে করে হাজির হতে পারি। এরপর থেকে তারা বিভিন্নভাবে ভাইকে হাজির করার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরদিন সকালে শুনছি আমার ভাইয়ের লাশ চুয়াডাঙ্গা শহরের তালতলা গ্রামে একটি গাছে ঝুলছে। আমার ভাইকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হক রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গ্রামের ইসলাম আলীর বরজ থেকে পান চুরি হওয়ায় সেই অপবাদ দেয়া হয় শফিউদ্দিনকে। সে আদৌও চুরি করেছিল কিনা এটার কোন প্রমাণ ছিলনা। গতকাল রাতে আমাকে বাড়ি থেকে সালিশে ডেকে নিয়ে আসেন তারা। যেহেতু অভিযুক্ত শফিউদ্দিন হাজির হয়নি তাই সালিসে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা তার পরিবারকে কোন রকম চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানি করেনি। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে রহস্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।

খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহিদূর রহমান জোয়ার্দ্দার রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, কোন ঘটনা ঘটলে গ্রাম আদালত কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো উচিত। তারা আমাদের না জানিয়েই সালিশের আয়োজন করেছিল। পান চুরির আপবাদ দিয়ে যারা সালিস ডেকেছিল তারা হয়তো শফিউদ্দিনকে ধরতে গিয়েছিল মনে হয়। আজ সকালে শুনছি তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটা হত্যা কিনা আত্মহত্যা সেটি পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পান চুরির অপবাদ দিয়ে সালিশ, পরদিন মিলল মরদেহ

প্রকাশের সময় : ১২:০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

নিহত শফিউদ্দিন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারি গ্রামের মাঝেরপাড়ার মোহাম্মদ আলী বুড়োর ছেলে।

তবে নিহতের বড় ভাইয়ের দাবি, আমার ভাই আত্মহত্যা করেনি, ভাইকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সকালে তালতলা এলাকার মুড়িতলার মাঠে কৃষি কাজের সময় লিছু গাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে, মরদেহের মুখ থেকে বিষাক্ত (ফেনা) জাতীয় কিছুর আলামত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।


তিনি রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শোনা যাচ্ছে পান চুরির অপবাদ দেয়া হয়েছিল। আবার হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আত্মহত্যা কিনা এটা এখনি বলা যাচ্ছেনা। আমরা মরদেহের মুখ পয়জনিং জাতীয় ফেনা ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন (সিআইডি) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহ যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন। আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহতের বড় ভাই রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গত দুদিন আগে শিয়ালমারি গ্রামের আকবার আলীর ছেলে ইসলাম আলীর পান বরজ থেকে পান চুরির ঘটনা ঘটে। এর চুরির অপবাদ দেয়া হয় আমার ছোট ভাই শফিউদ্দিনকে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইসলাম গ্রাম্য সালিসির আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হকসব গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এদিন বিকেল থেকে আমার ভাইকে খুজে পাচ্ছিলাম না। রাতভর খুজেও তাকে পাইনি। আর সালিশে ভাইকে হাজির করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা। আমি বলি আমার ভাই যেহেতু হাজির হয়নি তাহলে যে দোষি হতে পারে, তাই একদিন আমাকে সময় দিতে যেন ভাইকে সঙ্গে করে হাজির হতে পারি। এরপর থেকে তারা বিভিন্নভাবে ভাইকে হাজির করার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরদিন সকালে শুনছি আমার ভাইয়ের লাশ চুয়াডাঙ্গা শহরের তালতলা গ্রামে একটি গাছে ঝুলছে। আমার ভাইকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশাবুল হক রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গ্রামের ইসলাম আলীর বরজ থেকে পান চুরি হওয়ায় সেই অপবাদ দেয়া হয় শফিউদ্দিনকে। সে আদৌও চুরি করেছিল কিনা এটার কোন প্রমাণ ছিলনা। গতকাল রাতে আমাকে বাড়ি থেকে সালিশে ডেকে নিয়ে আসেন তারা। যেহেতু অভিযুক্ত শফিউদ্দিন হাজির হয়নি তাই সালিসে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা তার পরিবারকে কোন রকম চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানি করেনি। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে রহস্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।

খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহিদূর রহমান জোয়ার্দ্দার রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, কোন ঘটনা ঘটলে গ্রাম আদালত কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো উচিত। তারা আমাদের না জানিয়েই সালিশের আয়োজন করেছিল। পান চুরির আপবাদ দিয়ে যারা সালিস ডেকেছিল তারা হয়তো শফিউদ্দিনকে ধরতে গিয়েছিল মনে হয়। আজ সকালে শুনছি তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটা হত্যা কিনা আত্মহত্যা সেটি পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।

এএইচ